• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর চিঠির জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রীর

class-four-student-and-hasi20160925143726সিসি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মির্জাগঞ্জের পায়রা নদী সেতু নির্মাণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শীর্ষেন্দু বিশ্বাস পায়রা নদীতে সেতু নির্মাণ করার অনুরোধ জানিয়ে গত ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটা চিঠি পাঠায়। সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা চিঠি শীর্ষেন্দুর স্কুলে পৌঁছায় গত ২০ সেপ্টেম্বর। প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ৮ সেপ্টেম্বর।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, তিনি জানেন মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা নদীটি অত্যন্ত খরস্রোতা এবং নদীটির বিষয়ে শীর্ষেন্দুর এই সচেতনতা তাকে মুগ্ধ করেছে। শীর্ষেন্দুকে প্রধানমন্ত্রী তার চিঠিতে লিখেন, ‘মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তোমাকে আশ্বস্ত করছি’।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা এই চিঠিটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের হাতে তুলে দেবেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক একেএম শামিমুল হক ছিদ্দিকী।
class-four-student-letter20160925143610শীর্ষেন্দু বিশ্বাস তার চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছিল যে, তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি এবং বাড়িতে যেতে তাদেরকে মির্জাগঞ্জে পায়রা নদী পার হতে হয়। কিন্তু নদীটিতে প্রচণ্ড ঢেউ থাকে। ফলে অনেক সময় নৌকা বা ট্রলার ডুবে যায় এবং অনেকে বাবা-মা হারায়। চিঠিতে শীর্ষেন্দু জানায় যে সেও তার বাবা-মাকে ভালোবাসে এবং তাদের কোনভাবেই সে হারাতে চায় না। এজন্য নদীর ওপর একটি ব্রিজ বা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করে এই শিক্ষার্থী।
শীর্ষেন্দুর মা শিলা রানী সন্নামত জানান, তার ছেলে ডাকযোগে চিঠিটি পাঠিয়েছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একজন কর্মকর্তা ফোন করে জানান, চিঠি তারা পেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী জবাব দিতে আগ্রহী। কোন ঠিকানায় চিঠি পাঠাবেন প্রধানমন্ত্রী, সেটিও তখন জেনে নেওয়া হয়।
শিলা রাণী জানান, শীর্ষেন্দুর স্কুল থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি এসে পৌঁছেছে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর স্কুলেই এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এটি শীর্ষেন্দুর কাছে হস্তান্তর করবেন। তিনি জানান, শীর্ষেন্দু তার একমাত্র সন্তান, সে এবার ঝালকাঠি থেকে পটুয়াখালীতে আসার সময় নদীতে ঝড় উঠলে প্রচণ্ড ভয় পায়। এরপর নিজে থেকেই চিঠিটি লিখে ডাকযোগে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়।
11শিলা রাণী উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আমার ছেলের চিঠিটি সত্যিই যাবে আর তিনি জবাব দেবেন এটা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি। অনেক ভালো লাগছে আমাদের। এলাকার মানুষও খুব খুশী।
শীর্ষেন্দুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একটি মাসুম বাচ্চার লেখার জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এটি বিশাল ঘটনা আমাদের জন্য। এটা আসলেই বিরল।
তিনি বলেন, সোমবার বেলা ১১টায় চিঠিটি ওই শিক্ষার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়ার জন্য স্কুল প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক একেএম ছিদ্দিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে চিঠিটি শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের কাছে হস্তান্তর করবেন।
এদিকে পায়রা নদীতে সেতু নির্মাণ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় নদীর দুপাড়ের মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। চিঠিটি এক নজরে দেখতে সোমবার সর্বস্তরের মানুষ স্কুল প্রাঙ্গণে সমবেত হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর যৌক্তিক সচেতনতাবোধে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এর আগে সর্বস্তরের মানুষের ফোন রিসিভ করেও দৃষ্টান্ত রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ